ই-কমার্স ও বাস্তবতা

এক ডলারে ডোমেইন, এক ডলারে হোস্টিং এবং দশ ডলারে ই-কমার্স ওয়েবসাইট, এই হলো বর্তমানের আইটি। বললে খারাপ শুনাতে পারে, এরা উদ্যোক্তা হতে আসছেন নাকি উদিয়মান উদ্যোক্তা যারা আইটি সেক্টরে স্ট্রাগল করতে করতে আজ একটা পজিশনে এসেছেন, তাদেরকে ধবংস করতে আসছেন? এরা মতলববাজ। এরা ইকমার্সে থাকার জন্য এই সেক্টরে আসেনাই।

ভাই বিনা পয়সায় অথবা নামমাত্র পয়সায় দুনিয়াতে কোন ভালো জিনিশ পাওয়া যায়না। এই সাধারণ আইকিউটা যদি আপনার থেকে থাকে, তবে এইসব এক ডলার ওয়ালাদের এড়িয়ে চলুন। এরা হয়ত এক ডলারে আপনাকে ডোমেইন দেবে, হোস্টিংও দেবে, আবার দশ/পনেরো ডলারে ই-কমার্স সাইটও দেবে। আপনি হাজার হাজার টাকা খরচ করে সাইটের এসইও করাবেন, দিন রাত পরিশ্রম করবেন, এক বছরে সাইট একটি পজিশনে আসবে। সাইট র‍্যাংকিং এ আসবে, আপনি খুশিতে গদ্গদ। দেখেলেন ডোমেইন/হোস্টিং রিনিউ করার সময় হয়ে গেছে। আপনি ডোমেইন, হোস্টিং রিনিও করতে যাবেন, তখন দেখবেন এই এক ডলার ওয়ালাদের দৌরাত্ম। সুতরাং সাবধান থাকুন এইসব নাম সর্বস্ব আইটি কোম্পানি থেকে। এরা কখনোই উদ্যোক্তা না।

পেজ প্রমোটার হিসেবে আজকাল এডভার্টাইজারের অভাব নেই। ৬০/৬৫ টাকাতেও দেখি ডলার অফার করে। বাবার কি ৪/৫ টা জমিদারী আছে নাকি? হয়ত তাই। নইলে কিভাবে সম্ভব? জেনুইন এডভার্টাইজার যারা, তাদের কাছে গেলে ৯৫/১০০ ডলার চায়, ৯০ ডলার মিনিমাম। সেখানে ৭০ টাকায় ডলারে পেজ প্রমোট করে এটার কি কারণ থাকতে পারে? ভাবার বিষয়। প্রমোটারের সব কিছু নিশ্চিত হয়ে তাকে আপনার পেজের এডভার্টাইজার বানান। তার কার্ড কি, ব্যাংকার কে, লিমিট কত আছে, এসব কিছু নিশ্চিত না হয়ে তাকে আপনার মুল্যবান পেজ, যেখানে আপনার আয়, রোজগার রিজিক জড়িত, সেই পেজের এডভার্টাইজার বানানো মোটেই উচিত নয়। লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। প্রতিদিন অসংখ্য পেজ বন্ধ হচ্ছে ডলার টেম্পারিং এর কারণে। এই ডলারগুলোর উৎস হয়ত আপনার আমার ধারণারও বাইরে।

আজকাল নোংরা একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে অনলাইনে। কে কত সস্তায় কনজ্যুমারকে পন্য অফার করতে পারে। উদাহরণ দেই। কেউ একজন ই-ক্যাবে পোষ্ট দিলো, “আমার ৫০০ পিস টি-শার্ট লাগবে” ব্যাস কাজ শেষ। কমেন্টের বন্যা বয়ে যায়। প্রতিটি কমেন্টেই প্রতিযোগিতা। আমি সবচেয়ে কমদামে দিতে পারবো। আবার আরেকজন লিখছে বাজারের সবচেয়ে কম মুল্যর টি শার্ট, পোলো শার্টের সাপ্লাইয়ার আমরা। দুই চারজনতো আগ বাড়িয়ে সস্তার পাশাপাশি ৫০% ক্রেডিটেও দিয়ে দিতে চায়। এত সস্তার বাহার দেখে ক্রেতা নিজেই কনফিউজড! দেখা যায় পোষ্ট দাতার কোন রিপ্লাই-ই নাই। অথচ একটি বারের জন্যও কেহ বলেনা যে, ভাই ভালো কোয়ালিটি সম্পন্ন প্রোডাক্ট দিবো, কিন্তু প্রাইস বেশি পরবে। ভালো প্রোডাক্ট, ভালো প্রাইস। কম দামে ভালো প্রোডাক্ট দেয়ার এই মিথ্যা প্রতিযোগিতা থেকে আমরা কবে বের হয়ে আসবো? ই-কমার্সের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যেত, যদি আমরা মানুষকে ভালো প্রোডাক্ট দেয়ার প্রতিযোগিতা করতাম। সস্তার ধারণা থেকে যদি বের হয়ে আসতে পারতাম।

অনেকেই ইকমার্স থেকে বিদায় নিচ্ছে। শংকিত হই! সেক্টরটি শুরুই হয়নাই অথচ শুরুতেই সব শেষ! উত্তর খোজার সময় হয়েছে। ইকমার্স যেন ব্যর্থতার বৃত্ত না হয়। অনেকেই ই ক্যাবে পোষ্ট দেন, আমি ই কমার্সে আসতে চাই। একটাই পরামর্শ, সফলদের ফলো না করে যারা ব্যর্থ হচ্ছে তাদের ব্যর্থ হওয়ার কারণগুলো জানার চেষ্টা করুন। সফলদের পরেও ফলো করা যাবে। প্রতিদিন একটি করে ডেলিভারি কোম্পানি সৃষ্টি হয়, আবার প্রতিদিনই টাকা পয়সা নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনাও আছে। কাজেই হুটহাট ইনভেস্ট নয়।

Tahasin Chowdhury

I’m a digital strategist, and I believe that unique businesses deserve unique strategies to succeed online… and I love coming up with ideas to match your ambition.

Tahasin Chowdhury

Tahasin Chowdhury

I’m a digital strategist, and I believe that unique businesses deserve unique strategies to succeed online… and I love coming up with ideas to match your ambition.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *